
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:-
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ মাঠপাড়া এলাকায় সাংবাদিক তানজিনা, মশিউর রহমান মেরুন ও মোর্শেদা ইব্রাহিম নিরুকে কেন্দ্র করে ঘটনার মূল রহস্য ফাঁস হয়েছে।
*গোপনে বিয়ে, এখন কেন প্রকাশ্যে?*
তথ্য প্রকাশ হয়েছে, মশিউর রহমান মেরুন সাংবাদিক তানজিনাকে ২৫/০৯/২০২৫ তারিখে বিয়ে করেন। কিন্তু এতদিন বিষয়টি গোপন ছিল। এখন কেন মশিউর রহমান মেরুন নিজেই চাইছেন তানজিনা তার স্ত্রী এটা সবাই জানুক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
*বিচারে যাওয়ায় মানসিক টর্চার*
ভুক্তভোগী তানজিনার অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক মাস আগে মশিউর রহমান মেরুন তাকে মানসিক টর্চার করেন। এর জেরে তিনি তার মৃত স্বামীর ক্রয়কৃত জায়গার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি আবুল কালাম সাহেবের ছেলে আবুল কাউসার আশার কাছে বিচারে যান। মশিউর রহমান মেরুন যেতে নিষেধ করলেও এলাকার বিচারক হওয়ায় তানজিনা বিচারে যেতে বাধ্য হন।
তানজিনা বলেন, “সেই বিচারে যাওয়ার কারণেই মশিউর রহমান মেরুন আমাকে মানসিক টর্চার ও নির্যাতন করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আমি তার সাথে কথা বলতাম না, তার কাছে যেতাম না। আমি তার কাছে না যাওয়াতেই সে আমার জায়গার উপর শত্রুতা করতো।”
*এম.এস.টি টাওয়ার নিয়ে দ্বন্দ্ব*
এক পর্যায়ে তানজিনা নিজে নিজে তার মৃত স্বামী মাসুদুর রহমান মাকসুদের জায়গায় “এম. এস. টি টাওয়ার” করে ফ্ল্যাট বিক্রির উদ্যোগ নেন। তানজিনা দিন-রাত এক করে মৃত স্বামীর স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করছিলেন। এটাই মশিউর রহমান মেরুন মানতে পারছিলেন না।
এরপর মেরুন ও তার ফুফু মোর্শেদা নিরু মিলে তানজিনা ও মেরুনের বিয়ের কথা ফাঁস করে দেন। মুহূর্তেই এলাকাসহ আত্মীয়-স্বজন সবাই জেনে যায়। তানজিনা অভিযোগ করেন, “আমি আমার জায়গায় একা ১৫ তলা টাওয়ার করে ভালো থাকবো, সেটা মেরুন মানতে পারছিলো না।”
*অফিসে বাকবিতণ্ডা ও প্রাণনাশের হুমকি*
ঘটনার দুই সপ্তাহ আগে তানজিনা মেরুনের অফিসে গেলে বাকবিতণ্ডা হয়। মেরুন তাকে এম. এস. টি টাওয়ারের চেয়ারম্যান করার ইঙ্গিত দেন। তানজিনা মেরুনকে চেয়ারম্যানের পরের পদ নিতে বললে মেরুন বলেন, “আমি কারো পায়ের নিচে থাকবো না।”
পরে মেরুনের ফুফু মোর্শেদা ইব্রাহিম নিরু তানজিনাকে বাসা ছাড়ার জন্য সময় বেঁধে দেন এবং অপমান করেন। মেরুন তানজীনাকে তার ফুফু কাছে কল দিয়ে মাফ চাইতে বলেন আর বসায় থাকার জন্য সময় চাইতে বলেন, তানজিনা মেরুনের ফুফুর কাছে মাফ চেয়ে বাসায় থাকার জন্য সময় চান, মেরুনের ফুফু তানজীনাকে সময় না দিয়ে নানান অপমান ও হুমকি দেন যে তার দেয়া সময়ে মধ্যে চলে না গেলে অনেক অসুবিদ হবে।
তানজীনা মশিউর রহমান মেরুন কে তার ফুফু অপমান ও হুমকির কথা যানান, মশিউর রহমান মেরুন তানজীনা কে বলে তার ফুফু নাঃগঞ্জ আসলে তার ফুফু পায়ে দরে কান্না কাটি করে মাফ চাইতে।
তানজিনা মেরুনের ফুফুর কাছে গিয়ে তার পায়ে ধরে মাফ চাইতে রাজী না হলে
মেরুন আমাকে বলেছে, আমার কথার অবাধ্য হলে অসুবিধা হবে। মানুষ নিয়ে অপদস্ত করে এলাকা ছাড়া করাবে। আমি ছাড়া এই জায়গায় একা থাকার চিন্তা করলে তোরে গুলি করে মারবো। এই জায়গায় বাড়ি করতে হলে আমি করবো, তোর আমার আন্ডারে চলতে হবে।”
মশিউর রহমান মেরুন আরও বলেন সে ছারা এই জায়গায় একা থার কথা চিন্তাও করতে না তারা আমাকে হুমকি ধমকি দিয়ে রাখতো। আমি মেরুনের ভয়ে ও সম্মানের চিন্তা করে চুপ ছিলাম। শুধু আমার মৃত স্বামী মাসুদুর রহমান মাকসুদকে দেয়া কথা রাখতে, তার এতীম সন্তানের জন্য জায়গায় বাড়ি করতে চেয়েছিলাম। আজ সে কারণেই এই নির্যাতনের শিকার হলাম।”
*তদন্ত ও বিচার দাবি*
তানজিনা বলেন, “আমি যা বলছি তা সত্যি কি না প্রশাসন ও সাংবাদিক ভাইয়েরা তদন্ত করুন। আমার ও আমার সন্তানদের সাথে অমানবিক নির্যাতন, ঘরের এটা দরজা ভেঙে ৪ মোবাইল সহ ডকুমেন্ট, স্বর্ণালংকার ও ১০ লক্ষ টাকার মাল আটক এবং আমার সম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রশাসনের কাছে ও সাংবাদিক ভাইদের কাছে বিচার চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মশিউর রহমান মেরুন ও মোর্শেদা ইব্রাহিম নিরুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।