
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার উত্তর জাইদেরগাঁও জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন মসজিদটির সাবেক সভাপতি ও সোনারগাঁও রিপোর্টার্স ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শফিকুল ইসলাম। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য না দিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শফিকুল ইসলাম বাংলা টিভির বন্দর ও সোনারগাঁ প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এক বক্তব্যে তিনি বলেন, উত্তর জাইদেরগাঁও জামে মসজিদকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি একটি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে নানা ধরনের তথ্য প্রচার করছে। এসব তথ্যের অনেকগুলোই মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি তাঁর।
তিনি বলেন, ‘যাঁরা এসব তথ্য প্রচার করছেন, তাঁরা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বসুন। আমিও সেখানে উপস্থিত থাকব। আলোচনায় আমার কোনো ভুল-ভ্রান্তি প্রমাণিত হলে আমাকে দোষারোপ করতে পারেন। কিন্তু পূর্বের সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের না জানিয়ে নিজেদের মতো করে একটি কমিটি গঠন করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
মসজিদের উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরে শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালে তিনি প্রথম মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নেন। তখন মসজিদটির অবস্থা জরাজীর্ণ ছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের অর্থ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে মসজিদের উন্নয়নকাজ করেন। পরে ইমাম ও তাঁর পরিবারের থাকার জন্য নির্মিত গৃহে এক লাখ টাকা অনুদান দেন। এ ছাড়া প্রতি মাসে ইমামের বেতন বাবদ এক হাজার টাকা করে দিয়ে আসছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
মসজিদের উন্নয়নে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা করার কথা জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর বাবা-মায়ের নামে ১০ লাখ টাকা এবং তাঁর ভাই-বোনদের পক্ষ থেকে আরও ৪ লাখ টাকা—মোট ১৪ লাখ টাকা মসজিদের উন্নয়নে অনুদান দিতে তিনি প্রস্তুত।
তিনি বলেন, ‘কমিটি নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। মসজিদের উন্নয়ন এবং মুসল্লিদের জন্য ভালো কিছু করে যেতে পারলেই আমি সন্তুষ্ট। নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি না করে সবাই বসে গঠনমূলক আলোচনা করে মসজিদের উন্নয়নে কাজ করা উচিত।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই-বাছাই না করে কাউকে নিয়ে মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মতবিরোধ থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা সম্ভব। মসজিদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিভেদ নয়, বরং সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এর উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।