
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ-
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রশিদ (রশিদ মেম্বার)-এর বিরুদ্ধে হত্যা, সহিংসতা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক অপকর্মের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রুজু হয়েছে। এমনকি, স্বেরাচারী হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত সাধারন ছাত্র-জনতার উপর এই রশিদ মেম্বারের নেতৃত্বে হামলা ও গুলিবর্ষনেরও ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু অবাক করার বিষয় হচ্ছে, ৫-ই আগষ্টের পরবর্তী সময়ে এই রশিদ মেম্বার হয়ে উঠেছেন সবচাইতে বড় বিএনপি নেতা! আক্ষেপের সাথেই এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
এমনকি, আওয়ামী দোসর হিসেবে পরিচিত আব্দুর রশিদ মেম্বারের নির্দেশে ফতুল্লায় নাশকতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে আওয়ামী শাসনামল থাকাকালীন সময়ে পূর্বের মতই চালিয়ে যাচ্ছেন সকল ধরনের অপকর্ম।
রশিদ মেম্বারের মূল অপকর্ম ও অপরাধ:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হত্যা মামলা: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি বর্ষণ ও হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ইয়াসিন হত্যা মামলা (মামলা নং-৩০) অন্যতম, যে মামলায় তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
এলাকাভিত্তিক হত্যাকাণ্ড: বক্তাবলীর চর বক্তাবলী এলাকার আলোচিত জাকির হোসেন হত্যা মামলা-এর অন্যতম প্রধান আসামি রশিদ মেম্বার। ২০২২ সালেও এই হত্যা মামলায় তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হয়ে আসেন।
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম: বক্তাবলী ও ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ ব্যবসায়ী, কনকর্ড তেলের পাম্পের মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নারী ইউপি সদস্যকে হুমকি: গত কয়েকমাস পূর্বে জামিনে মুক্ত থাকার সময় তিনি বক্তাবলী ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের নারী সদস্য হাসনা ভানুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে করা অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে হত্যা করার হুমকি দেন, যা নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।
আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা: একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় রশিদ মেম্বারকে বিভিন্ন সময় পুলিশ ও র্যাব গ্রেফতার করে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফতুল্লা থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে বক্তাবলীর গোপালনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। তার গ্রেফতারের খবর পেয়ে অনুসারীরা ফতুল্লা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে তাকে ডিবি পুলিশের হেফাজতে নেয়। এরপর জামিনে বের হয়ে আসার পর থেকে বিএনপি নেতাদের সাথে আতাত করে বনে যান বিএনপি নেতা। এখনো সেই পূর্বের মতই চালিয়ে যাচ্ছেন সকল অপকর্ম। নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন পুরো এলাকা। বর্তমান আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের পুলিশ ধরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে প্রতিষ্টিত করার জন্য হীন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপরোক্ত ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আব্দুর রশিদ তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন৷ আর বিগত সময়ের আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি। তিনি দাবি করেন, চাপ প্রয়োগ করে আওয়ামীলীগের ব্যানার ফেষ্টুনে তার ছবি ব্যবহার করার জন্য চাপ প্রয়োগ করার কারনে তিনি এমনটা করতে বাধ্য হন।
বর্তমানে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করছেন এবং আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত নেতা কর্মীদের পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিচ্ছেন এ প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রশিদ মেম্বার বলেন, তিনি কোন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে এমন কাউকে ধরাননি। তবে, আওয়ামীলীগ যাতে সরকার বিরোধী কোন কর্মকান্ড করতে না পারেন সে বিষয়ে তিনি তৎপর রয়েছেন।