লাউয়াছড়া উদ্যানে আগুন আসলো কিভাবে? - আজকের সংবাদ

সদ্য পাওয়া

Home Top Ad

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন ০১৯২৬৮৭০৭২৭

Post Top Ad

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন ০১৯২৬৮৭০৭২৭

শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১

লাউয়াছড়া উদ্যানে আগুন আসলো কিভাবে?


লাউয়াছড়া উদ্যানে আগুন আসলো কিভাবে?


তিমির বনিকঃ- মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়াদেশের অন্যতম সংরক্ষিত বন বিরল প্রজাতির বণ্যপ্রাণীর আশ্রয়স্থল জাতীয় এই উদ্যানে শনিবার দুপুরে হঠাৎ করে আগুন লেগে যায়। প্রায় ৪ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে বিকেল ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও বনের ভেতরে আগুন লাগলো কিভাবে এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় এই উদ্যানে আগুন লেগে যায়। আগুনের উৎস ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বনবিভাগ।

স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, লাউয়াছড়া বনের ভেতরে স্টুডেন্ট ডরমেটরি অংশে কাজ করছিলেন বন বিভাগের কিছু কর্মী। দুপুর ১২ টার দিকে ওই এলাকায় হঠাৎ আগুন লাগে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানান, শনিবার সকাল থেকেই বনবিভাগ কর্মীরা বনের ভেতরের ঝোপঝাড় পরিস্কারের কাজ করছিলেন৷ পরিস্কার করতে গিয়ে শ্রমিকরা গাছের শুকনো ডালপালা ও খড়কুটোতে আগুন ধরিয়ে দেন। সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বনের ভেতরে।

এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে লাউয়াছড়া বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক প্রভাষক জলি পাল বলেন, আমি শুনেছি বন বিভাগের কর্মীরা বন পরিষ্কার করতে গিয়েছিলো। তাদের মাধ্যমেই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে অণেকে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু বন পরিষ্কার করতে হবে কেনো। বন তো বনের মত থাকবে ।

তবে বন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বনায়নের লক্ষ্যে লাউয়াছড়ার বনের ভেতরের জঙ্গল পরিস্কার করছিলেন কর্মীরা। তবে আগুনের সূত্রপাত কিভাবে এ নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি।

অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন বিভাগ। এই কমিটিকে দুই দিনের ভেতরে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বনবিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদি সরোয়ারের নেতৃত্বে কমিটির অন্য সদস্য হলেন- বন মামলা পরিচালক জুলহাস উদ্দিন।

ফায়ার সার্ভিসের কমলগঞ্জ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন ম্যানেজার নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিকেলের দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে আগুনের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ) রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, আগুন কিভাবে লাগলো এবং কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলে আগুণের সূত্রপাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রস্থল লাউয়া ছড়া উদ্যান, দেশ৷ বিদেশ থেকে আশা বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ঔই স্থানটিকে নিয়ে এভাবে তাচ্ছিল্য রুপে পরিনত করা হবে ভাবা যায়না। 
১২৫০ হেক্টর জমি নিয়ে লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল। ১৯৯৬ সালে এটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। উদ্ভিদ আর প্রাণীবৈচিত্রের আঁধার এই বন বিভিন্ন বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। বন বিভাগের হিসেব মতে, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৫৯ প্রজাতির সরীসৃপ (৩৯ প্রজাতির সাপ, ১৮ প্রজাতির লিজার্ড, ২ প্রজাতির কচ্ছপ), ২২ প্রজাতির উভচর, ২৪৬ প্রজাতির পাখি ও অসংখ্য কীট-পতঙ্গ রয়েছে। এই বনে বিরল প্রজাতির উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, চশমাপড়া হনুমানও দেখতে পাওয়া যায়।কিন্তু এভাবে আগুনের লেলিহান শিখায় জীব বৈচিত্র্য সব হারাতে বসেছে যা মোটেও কাম্য নয়।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন ০১৯২৬৮৭০৭২৭