হেফাজত কান্ডে,সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতাকর্মীদের হয়রানি অভিযোগ - আজকের সংবাদ

সদ্য পাওয়া

Home Top Ad

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন ০১৯২৬৮৭০৭২৭

Post Top Ad

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন ০১৯২৬৮৭০৭২৭

শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১

হেফাজত কান্ডে,সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতাকর্মীদের হয়রানি অভিযোগ


হেফাজত কান্ডে,সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতাকর্মীদের হয়রানি অভিযোগ


সোনারগাঁ প্রতিনিধিঃ- রয়েল রিসোর্টে মাওলানা মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীসহ অবরুদ্ধের পর আওয়ামী লীগের কার্যালয় যুবলীগ,ছাত্রলীগের বাড়ী ঘর ভাংচুর ও মহাসড়কে সহিংসতার ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দলটির শীর্ষ নেতারা।


সোনারগাঁ উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতারা বলছেন, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে ও বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশ জাতীয় পার্টির উপর দায় চাপাতে চেষ্টা করছে। ওই ঘটনায় দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেয়া হয়েছে,আরো একাধিক মামলা দেয়ার পায়তারা চালাচ্ছে। এর মধ্যে গায়েবি মামলা আছে বলেও জানান।


গত ৩রাএপ্রিল মাওলানা মামুনুল হককে কথিত দ্বিতীয়  স্ত্রীসহ অবরুদ্ধ করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। ঘটনার পর একটি চক্র রিসোর্ট,সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সোহাগ রনির বাড়িঘর এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুরসহ মহাসড়কে অগ্নিসংযোগ করে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় এমনকি সাংবাদিক কেও মারধরসহ জনসমক্ষে হেনস্থা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে ২টি এবং ক্ষতিগ্রস্তরা বাদি হয়ে আরো পাঁচটি মামলা করেন। এই সাত মামলায় ৪৪৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত  ১৮০০ জনকে আসামি করা হয়। এ সব মামলায় এ পর্যন্ত ৭৪ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


জাতীয় পার্টির নেতারা অভিযোগ করে বলেন,দলটির সোনারগাঁ উপজেলার সভাপতি আঃরব ও সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম ইকবাল,পৌরসভা সভাপতি এম এ জামান, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সফি,জাতীয় ছাত্র সমাজের উপজেলা সভাপতি ফজলুল হক মাস্টার, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাহমুদ হোসেনসহ দলটির ৮৭ জন নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ বাদি হয়ে জাতীয় পার্টির স্থানীয় তিন নেতাকে আসামি ও বাকি পাঁচটি মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশের কয়েকজন নেতার পক্ষ থেকে দায়ের করা। যেসব মামলার বেশির ভাগ আসামি জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা।


জাতীয় পার্টির নেতারা জানান,এসব মামলার মধ্যে গায়েবি মামলাও রয়েছে। সোনারগাঁয়ের করোনা স্বেচ্ছাসেবক টিমের লিডার মো: ছানাউল্লাহ নিজেই পহেলা এপ্রিল থেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে তার নিজ বাড়ীতে আইসোলেশনে ছিলেন। মাওলানা মামুনুল হকের রিসোর্ট কাণ্ডে মামলা করা হয়েছে তার বিরুদ্ধেও। 


চিকিৎসার জন্য ভারতে অবস্থান করছিলেন জাতীয় পার্টির আরেক নেতা মো: হারুন উর রশীদ এই ঘটনায় তাকেও আসামি করা হয়েছে।। মো: হারুন উর রশীদ গত ১৭ মার্চ কলকাতায় যান, আর বাংলাদেশে ফেরেন ১০ এপ্রিল।


জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সোনারগাঁয়ের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, ‘রিসোর্ট কাণ্ডের সময় আমাদের দলের নেতাকর্মীরা ঘটনার আশেপাশেও ছিল না। অথচ স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আওয়ামী লীগের একটি অংশ গায়েবি মামলার নামে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের দমন-পীড়নের চেষ্টা করছে। যা সত্যিই দুঃখজনক। তবে হেফাজতের হামলা ও তান্ডবের নিন্দা ও জরিতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। 

এসময় তিনি বলেন,বিদেশে ছিলেন এমন লোকও আসামি করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাসায় আইসোলেসনে ছিলো সেও আসামি। এ থেকেই বোঝা যায়,প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে এবং ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই জাতীয় পার্টির সোনারগাঁয়ের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে।


এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন,তিনি বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন। এছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তিনি মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক মামলা থেকে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের অব্যাহতি দেয়ার জন্য একটি লিখিত আবেদনও করেছেন।


অপর দিকে সোনারগাঁয়ে আটক জাতীয় পার্টি নেতৃবৃন্দের মুক্তি এবং হয়রানির বন্ধের দাবি করেছে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি এবং জাতীয় পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। এক যৌথ বিবৃতিতে সোনারাগাঁ উপজেলা জাতীয় পার্টি সভাপতি ও শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুর রউফ এবং সোনারগাঁও পৌর জাতীয় পার্টি সহসভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর ফারুক আহমেদ তপনের মুক্তি দাবি করেছেন তারা।

বিবৃতিতে তারা বলেন, মাহে রমজানের পবিত্র মাস এবং মহামারী করোনাকালে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ঘরে থাকতে পারছে না। প্রতিরাতে পুলিশ জাতীয় পার্টি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হানা দিচ্ছে এতে ওইসব পরিবারে মারাত্মক ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় পার্টি নেতৃবৃন্দ নিরপরাধ এবং ওই ঘটনার সাথে জড়িত নয় এমন কোনো ব্যক্তি যেন অযথা গ্রেফতার বা হয়রানির শিকার না হয় সে জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন ০১৯২৬৮৭০৭২৭