
মোঃ নুর নবী জনি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে হামেশা ফুড লিমিটেড ও কাশ্মীর গ্রুপের কারখানায় পৃথক ডাকাতির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ২০০ কেজি তামার তার, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ, মালামাল বিক্রির ৯৩ হাজার টাকা এবং একটি তামার ববিন উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গত ২৬ অক্টোবর দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে সোনারগাঁয়ের হামেশা ফুড লিমিটেডের নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে তামার তার, মনিটর ও মোবাইল ফোন ডাকাতি করে একটি দল। পরদিন ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে একই কায়দায় কাশ্মীর গ্রুপ লিমিটেডের কারখানা থেকেও তামার তারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় তারা। দুই ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় পৃথক দুটি ডাকাতি মামলা দায়ের হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএমের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদীর তত্ত্বাবধানে এবং ‘বি’ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষের সহযোগিতায় সোনারগাঁ থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএম এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে দুটি দল গঠন করা হয়।
পুলিশের দুটি দল ঢাকা, গাজীপুর ও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গত ৩১ অক্টোবর পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন-শরীয়তপুরের জাজিরার রাদেশুল মাদবর ওরফে রাজু (৩০), কুমিল্লার তিতাসের আবু সাঈদ ওরফে মোল্লা (৩৯), নরসিংদীর মাধবদীর বাছের মিয়া (২৫), টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের অনিল বাবু (৩৫) এবং গাজীপুরের কালীগঞ্জের ইমন হাসান ওরফে রাশেদুল (২৮)।
পুলিশ জানায়, রাজুকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকা থেকে এবং আবু সাঈদকে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন আনারকলি এলাকার হাফসা ট্রেডার্স থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপর তিনজনকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ২০০ কেজি তামার তার, ৩০০ আরের ৪৪০ মিটার ক্যাবলের কভার থেকে খোলা তার, ঢাকা মেট্রো-ন-২০-৬৮৫৮ নম্বরের একটি খোলা পিকআপ, মালামাল বিক্রির নগদ ৯৩ হাজার টাকা এবং একটি তামার ববিন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, গত ১ নভেম্বর গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতে পাঠানো হলে রাদেশুল মাদবর ওরফে রাজু এবং আবু সাঈদ ওরফে মোল্লা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গ্রেপ্তার রাজুর বিরুদ্ধে একটি ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অনিল বাবুর বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে